আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে যেন কোন পক্ষ নাশকতা সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্ধ্যা বা একটু গভীর রাত হলেই চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীদের চেক করে তারপর ছাড়া হচ্ছে। কাউকে সন্দেহ হলে একটু বেশি প্রশ্ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চেক করা হচ্ছে। তাছাড়াও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআই বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী সংস্থাগু লোকে সনাক্ত করেছে যারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বৃহৎ জঙ্গি হামলা করতে চায়।
তাছাড়াও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২৪ ঘন্টা মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিজেপির বেশ কয়েকটি ব্যাটালিয়ন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে পরিমাণ মব সন্ত্রাসী শুরু হয়েছে তা থেকে সংখ্যালঘুরা রেহাই পায়নি। বিশেষ করে ময়মনসিংহের দীপু দাসের কথা না বললেই নয়। যাকে একদল তৌহিদি জনতা মব সৃষ্টি করে হত্যা করেছিল। যার ফলে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিজি মাসুদ বলেছেন যে পুলিশ ২৪ ঘন্টায় জনগণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। তবে নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা ব্যাঘাত হতে পারে। যেহেতু বেশিরভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য নির্বাচনের ব্যালট বাক্স এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে।
বাংলাদেশ সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায় যে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের থেকে কম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জনক বার্তা দিচ্ছে।
