বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়েত ইসলামী তাদের প্রচারণা ব্যাপক হারে চালিয়ে যাচ্ছে। সকল এমপি প্রার্থী ধারে ধারে গিয়ে মানুষের কাছে তাদের ভোট চাইছে এবং জনগণের মতামত নিচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এবং বাংলাদেশের সকল কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই পদক্ষেপগুলো নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে এই ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড এর মানে কি?
কৃষক কার্ড কি?
কৃষক কার্ড মূলত বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের প্রদান করা হবে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকার অভাবে কৃষি কাজে ঔষধ এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করতে পারেনা। এই কার্ডের মূল উদ্দেশ্যই হবে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী খুব অল্প মূল্যে তাদের প্রদান করার জন্য। অর্থাৎ অন্যান্য মানুষের কাছে যদি একই জিনিস 50 টাকায় বিক্রি করা হয় তা একজন কৃষকের কাছে বিক্রি করা হবে 15 টাকায়।
যার ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ কীটনাসার, সার, এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করা আগের চেয়ে অনেক সহজলভ্য হয়ে যাবে। যা কৃষি খেতে ব্যবহার করলে কৃষকরা লাভবান হবে এবং সেই ফসল বিদেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করলে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ আয় করা সম্ভব।
তাছাড়াও যাদের কাছে এই কার্ড থাকবে তারা সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কম মুনাফায় লোন নিতে পারবে। যদিও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো ঘুষ ছাড়া কৃষকদের লোন দিতে চায় না তার পরেও এটি বাস্তবায়ন হলে অনেকেই নিজেদের কৃষি জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে লাভবান হতে পারবে।
ফ্যামিলি কার্ড কি?
ফ্যামিলি কার্ড মূলত প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত থাকবে এবং সেই পরিবারের একমাত্র ব্যক্তি বা যিনি সেই পরিবারের প্রধান তাকেই প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটির মত পরিবার রয়েছে যাদের বেশির ভাগই গ্রামে বসবাস করে এবং হতদরিদ্র। মূলত বাংলাদেশের হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সচ্ছল করার জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের প্রায় এক থেকে দেড় কোটি পরিবার অসচ্ছল এবং তাদের পরিবারের জনসংখ্যা ও অধিক। তাই বাংলাদেশে এই ধরনের একটি পদক্ষেপ সত্যি যুগান্তকারী হতে পারে। মূলত এই কার্ড যাদের কাছে থাকবে তারা মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা অথবা ২৬ কেজি আলু, ৩০ কেজি চাল এবং অন্যান্য মসলা পাবেন।
কিন্তু এইখানে একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে দিনশেষে এগুলো কি সাধারণ মানুষের হাতে আসবে নাকি প্রাক্তন সরকারের মত তাদের আমলারাই এগুলো লুটপাট করে ফেলবে। তবে বর্তমানে এদেশের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন তাদের অধিকার নিয়ে। তাই ভবিষ্যতে যদি কোন সরকার বা তাদের লোকেরা এভাবে লুটপাট করে তাহলে সাধারণ জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং তাদের নৈতিক অধিকার বুঝে নিবে।
