Sunday, 15 March 2026
  • Home  
  • নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা
- জাতীয় - মতামত

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা

আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকটি শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে যা কিনা বিগত বছরগুলোতে একেবারে বিরল ছিল। তাছাড়া ভারতের […]

আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকটি শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে যা কিনা বিগত বছরগুলোতে একেবারে বিরল ছিল। তাছাড়া ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এবং পশ্চিমা কিছু গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর মূল টার্গেট হচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যা লঘু এবং রাজনৈতিক দলগুলো।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাওহীদ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর ধরে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জনগণ ভোট দিতে যাবে সেখানে হামলা হলে অনেক লোক নিহত এবং আহত হতে পারে।

সম্ভাব্য হামলাকারী কারা?

বাংলাদেশে যেরকম ইসলামিক গণতান্ত্রিক দল রয়েছে এবং ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল রয়েছে ঠিক তেমনি বেশ কয়েকটি ইসলামিক দল হয়েছে যারা গণতন্ত্র বিরোধী এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হিজবুত তাওহীদ এবং বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আই এস।

তবে ধারণা করা হচ্ছে এদের সাথে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও যুক্ত আছে। উদাহরণস্বরূপ বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের মামুনুল হক আফগানিস্তান যায় এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের শরিয়া শাসন নিয়ে আলোচনা করে আসেন। যদিও তিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলাদেশে শরিয়া বাস্তবায়ন করতে চান। তারপরও গোয়েন্দারা ধারণা করছে যে পাকিস্তানের মতো এদেশেও তালেবান জঙ্গি সংগঠন তাদের শাখা গড়ে তুলতে চায়।

বিগত সরকারের আমলে যে সকল জমি সংগঠনগুলোকে দমন করা হয়েছিল যেমন আইএস এবং হিজবুত তাওহীদ তারা আবার নিজেদের মাথা চাড়া দিয়ে উড়তে পারে এবং নির্বাচনের আগে যেহেতু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকবে এই সুযোগকে কেন্দ্র করেই তারা সারা দেশে হামলা করে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এখন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে যেন এই ধরনের সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা যায়। তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি একত্রিত হয়ে যৌথভাবে অপারেশন পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী তাদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করবে যারা ২৪ ঘন্টা সারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বিশেষ করে কূটনৈতিক এরিয়া গুলোতে।

সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকারুজ্জামান বলেন যে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল বেশ কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তবে তারা কোনভাবে সফল হচ্ছে না। তবে যদি তারা কোনরকম সুযোগ পায় বা দুর্বলতা পায় তাহলে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা করতে পারে। বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসার সন্ত্রাসীরা পাহাড়েও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি মায়ানমারের আরাকান আর্মি দ্বারা বাংলাদেশ  গুলি করা হয় যার ফলে একজন বাংলাদেশী নিহত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি আসন কে করছে যে নির্বাচন কে কেন্দ্র করে যখন বেশিরভাগ সেনা সদস্য সীমান্ত ছেড়ে চলে আসবে ঠিক তখন এই সুযোগ লুফে নিতে পারে মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জিরো টলারেন্স

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনুস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন যার অর্থ হলো বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তেই সন্ত্রাস রা সন্ত্রাসবাদী করুক না কেন তাদের দমন করা হবে। এজন্য বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর ২৪ ঘন্টা মাঠে রয়েছে বলেও তিনি জানান এবং জনগণকে সব ধরনের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি বর্তমান সরকার বিদেশি দেশগুলো দ্বারা কূটনৈতিক চাপে রয়েছে কেননা কোনভাবেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এবং সন্ত্রাসী হামলা হলে এই মুহূর্তে সেটা আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করবে। এর আগে ২০১৬ সালে গোলশানের একটি বেকারিতে জঙ্গি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকসহ বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করেছিল জঙ্গি সংগঠন আইএস। এ ধরনের হামলার যেন কোনরকম পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক অবস্থায় নিয়ে রয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Us

DeshHub একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশের ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ, মতামত এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পাঠকের কাছে দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Email Us: contact@deshhub.com

Contact: +5-784-8894-678

Sign Up for Our Newsletter

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

DeshHub  @2026. All Rights Reserved.