Sunday, 15 March 2026
  • Home  
  • ইউরোপের দরজা বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য
- আন্তর্জাতিক - জাতীয় - মতামত

ইউরোপের দরজা বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা হল ইউরোপ যেখানে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এবার দুঃসংবাদ দিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত। যার ফলে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হতে পারে ইউরোপের দরজা। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বলেন বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণ ভুয়া ডকুমেন্টস আমাদের কাছে দেয় তা পৃথিবীর […]

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা হল ইউরোপ যেখানে তারা উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এবার দুঃসংবাদ দিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত। যার ফলে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হতে পারে ইউরোপের দরজা।

গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বলেন বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণ ভুয়া ডকুমেন্টস আমাদের কাছে দেয় তা পৃথিবীর আর কোন দেশ দেয় না। যার ফলে সত্য এবং মিথ্যা যাচাই করতে আমাদের অনেক সময় লেগে যায় এবং অনেক সময় ভূয়া সার্টিফিকেট নিয়ে মানুষ ভিসা পেয়ে যায়। সেখানে পাড়ি জমানোর পর পড়াশোনা না করে এসাইলাম চায় এবং পার্মানেন্টলি থেকে যায়।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের আগে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত বলেন যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সেখানে পাড়ি জমাচ্ছে ঠিকই কিন্তু তারা আর ফেরত আসছে না। যার ফলে দেশটিতে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়ো বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা না চালিয়ে অবৈধভাবে কাজ করে। ফলস্বরূপ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ডেনমারকে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এডমিশন দেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বর্তমানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের একেবারেই ভিসা দিচ্ছে না যার মধ্যে অন্যতম হলো ইতালি, ব্রিটেন এবং লিথুনিয়া। ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তো সরাসরি বাংলাদেশের সিলেটি শিক্ষার্থীদের এডমিশন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনে পাড়ি দেন ঠিকই কিন্তু সেখানে গিয়ে আর পড়াশোনা কন্টিনিউ করে না।

যার ফলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যেরকম অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন হয় ঠিক তেমনি উক্ত দেশের অবৈধ অভিবাসী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে অনেক অভিবাসী চাপ থাকায় তারা নতুন করে কোন অবৈধ অভিবাসী তাদের দেশে ঢুকাতে চাচ্ছে না। গতবছরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সহায়তার চেয়ে আবেদন পড়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি জমানো এবং বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপে যাওয়া শিক্ষার্থীরা।

এখনো জার্মানির মতো বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভালো হারেই ভিসা দিচ্ছে। তবে জার্মানি বাংলাদেশকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে যে এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা দিবেনা দেশটি। এর পাশাপাশি দেশ অস্ট্রিয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ডকুমেন্টগুলো তৃতীয় পক্ষ দ্বারা যাচাই করে তারপরই এডমিশন দিয়ে থাকে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কি এরকমটা হচ্ছে?

যদিও এ সকল বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরেকটি বিষয় খুবই বড় প্রভাব ফেলছে সেটি হল বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। যার ফলে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ সহ বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশীদের জন্য একদমই ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়াও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ফলে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে ব্যাপক চাপ প্রদান করছে। যার ফলে ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার এইরকম হুমকি দেওয়া স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।

তাছাড়া ও বাংলাদেশ থেকে আগে কখনো জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসীরা বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেনি কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি জঙ্গি হামলা করে যার ফলস্বরূপ দেশটি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়া এবং ইমিগ্রেশন অনেক কঠিন করে ফেলে।

তাছাড়াও দেশের ভিতর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে যেরকম সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরের একটি বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণে তিনজন লোক নিহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করে জানিয়েছে যে উক্ত ঘরে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনগুলো বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে বোমা তৈরি করেছিল যা আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। এ সকল নিউজ বিদেশি মিডিয়ায় প্রচারিত হলে বাংলাদেশ নিয়ে সে সকল দেশের সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের ভয় সৃষ্টি হয়। যার ফলে বাংলাদেশিদের জন্য সকল ধরনের ভিসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ।

ভবিষ্যৎ কি?

ভবিষ্যতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের দরজা যে কঠিন হবে তা বলা বাহুল্য। তবে দেশের ভিতরে যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সন্ত্রাসবাদ ভ্রমণ করতে পারে বাংলাদেশ সরকার তাহলে হয়তো বা ভবিষ্যতে এর সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে জোর দিতে হবে যেন কোন এজেন্সি অথবা ব্যাংক বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের ফেক ডকুমেন্টস তৈরি না করে দেয়।

এগুলো যদি বন্ধ করতে পারে বাংলাদেশ সরকার তাহলে হয়তো বা ভবিষ্যতে আবারও ইউরোপের দরজা আগের মত সহজ হয়ে যাবে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য। তাছাড়াও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরালো করতে পারলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অন্যান্য ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য ইউরোপের দরজা আরো অনেক সহজ হবে বলে ধারণা করছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Us

DeshHub একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশের ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ, মতামত এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পাঠকের কাছে দ্রুত, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Email Us: contact@deshhub.com

Contact: +5-784-8894-678

Sign Up for Our Newsletter

Subscribe to our newsletter to get our newest articles instantly!

DeshHub  @2026. All Rights Reserved.